সংসদ প্রাণবন্ত করতে বিরোধী-দলের পক্ষে জন-মানুষের প্রত্যাশার কথা এখন কে বলবে ?

এলাহান উদ্দিন

সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে সন্তোষজনক হয়েছিল। একজন বিরোধীদলীর উপনেতার বক্তব্য ও তার কার্য-কলাপে সবার কাছে গ্রহনযোগ্যতার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছিল যে, এবার জাতীয় পার্টি আসলেই সঠিকভাবে বিরোধী-দলের ভূমিকা পালন করবে এবং অল্পকিছুদিনের মধ্যেই গোলাম মোহাম্মদ কাদের জনপ্রিয়তার মাধ্যমে  সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল ।

হঠাৎ পার্টির চেয়ারম্যান দল থেকে কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় নজীরবিহীন বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের মহোদয়কে রহস্যময়ভাবে অকারনে দল থেকে কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার ফলে জাপার প্রাণ-কেন্দ্র সহ সারা বাংলাদেশে নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ সহ দলত্যাগের ঘোষণা দেয় এবং সাধারণ মানুষ জাপার প্রতি ক্রমশ আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

নিয়োগের দুই মাসের মধ্যে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা ।তাহলে, সংসদ প্রাণবন্ত করতে বিরোধী-দলের পক্ষে জন-মানুষের প্রত্যাশার  কথা  সংসদে কে তুলে ধরবে? উপযুক্ত কি কেউ আছে ?

কি কারণে কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তা সঠিক ভাবে জানেন না গোলাম মোহাম্মদ কাদের ।

কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার চিঠিতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল তা একটি আদর্শ রাজনৈতিক দলের জন্য অসাংগাঠনিক এবং অসঙ্গতিপূর্ণ ।

যদি গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে চেয়ারম্যান না বানানো হয় এবং পূর্ণ দায়িত্ব না দেয়া হয় তবে জাতীয় পার্টি থেকে নেতা-কর্মীরা গনহারে পদত্যাগ করলে পার্টির অবস্থা ভয়াবহ বিলুপ্ত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন ।    

তাহলে,এরশাদের অবর্তমানে কে চেয়ারম্যান হবেন ? যদি গোলাম মোহাম্মদ কাদের ব্যতীত অন্য কাউকে চেয়ারম্যান বানানো হয় তবে পার্টির অবস্থা কি হতে পারে?

গোলাম মোহাম্মদ কাদের ছাড়া, অন্য কেউ এই মুহুর্তে জাপার কান্ডারী হিসাবে উপযুক্ত নন বলে অনেক নেতা-কর্মী্রা মনে করছেন ।

একটি রাজনৈতিক পার্টি যদি নিজেদের মধ্যেই সমস্যায় সমাধান করতেই যদি বছরের পর বছর লেগে যায়, তবে  কিভাবে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাথে প্রতিযোগীতা করবে?

-লেখকঃ

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এলাহান উদ্দিন