লজ্জার হারে জীবনের প্রথম সেঞ্চরি করলেন সাব্বির

সতীর্থরা যখন আসা যাওয়ার মিছিলে, তখন সাইফুদ্দিনকে নিয়ে জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সাইফুদ্দিন আউট হয়ে গেলেও সাব্বির শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে ১০৫ বলে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ১১০ বলে ১০২ রান করে আউট হন সাব্বির। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল বারোটি চার ও দুটি ছয়ের মারে। এতদিন পর্যন্ত সাব্বিরের সর্বোচ্চ রান ছিল ৬৫।

ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ থাকলেও, এক মাস আগেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সাব্বিরকে জাতীয় দলে ডাকা হয়েছিল। তার দলে ফেরা নিয়ে সমালোচনার জল অনেক দূর গড়িয়েছে। কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন তিনি। এবার সেই সমালোচনার জবাব দিলেন ব্যাট দিয়ে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডানেডিনে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

মাথায় পাহাড়সম রানের চাপকে জয় করে কীভাবে খেলতে হয় তা সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিজেদের পারফর্মেন্স দিয়ে শিখিয়েছেন সাব্বির রহমান ও সাইফুদ্দিন। যে পিচে তামিমরা উইকেটের মিছিল করেছেন সে পিচেই কী সাবলীল ব্যাটিংই না করেছেন এ দুজন। সিঙ্গেলস-ডাবলসের পাশাপাশি তাদের ব্যাট থেকে এসেছে চার-ছক্কাও।প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন এ দুজন। তারা আসার পর থেকেই যেন বদলে গেছে খেলার চেহারা। রং বদলে গেছে পিচেরও। দলীয় ২ রানে তামিম-সৌম্য-লিটন আউট হলে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিক প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন। তবে তারাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মুশফিক ১৭ ও মাহমুদুল্লাহ ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

মুশফিক আউট হলে ক্রিজে আসেন সাব্বির। আর মাহমুদুল্লাহ ফিরে গেলে আসেন সাইফুদ্দিন। এর পরই শুরু হয় এ দুজনের সাবলীল ব্যাটিং। সাইফুদ্দিনের ৪৪ রানে আউট হওয়ার মাধ্যমে ভাঙে ১০১ রানের জুটি। ১০৭ বলে ষষ্ঠ উইকেটে তারা এ রান করেন। ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভাল মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষটিতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় শুরু হয়। ডানেডিনে আগে ব্যাটিং করে নেওয়া রানের মধ্যে এটা চতুর্থ সর্বোচ্চ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬০ রান করেছিলেন কিউইরাই।জাবাবে ব্যাট করতে নেমে সাব্বিরের সেঞ্চুরিতে ২৪২ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ৮৮ রানের হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের।