মিষ্টিকুমড়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!

ভালো দাম ও লাভের আশায় উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া সংরক্ষণ করে বিপাকে পড়েছেন লালমনিরহাট চাষিরা। তিস্তা, সানিয়াজান ও ধরলা নদীর চরাঞ্চলের কয়েক শতাধিক চাষি মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় তাদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। কুমড়া পচনশীল হওয়ায় বেশি দিন ঘরে রাখতে না পেরে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদিত ওই সব কুমড়ার অধিকাংশই চাষ হয়েছে চরাঞ্চলে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীর শোলমারী এলাকার চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ৩৯ হাজার টাকা খরচ করে তিস্তার চরে ৩ বিঘা জমিতে কুমড়া চাষ করে উৎপাদন পেয়েছি সাড়ে ৬ হাজার কেজি। কয়েক দিন ৮ টাকা কেজি দরে কুমড়া বিক্রি করেছি। ভালো দাম পাওয়ার আশায় কুমড়া সংরক্ষণ করে এখন অর্ধেক দামে বিক্রি করছি। কিন্তু গেল বছর এই সময়ে প্রতি কেজি কুমড়া ১৩ থেকে ১৪ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন বলে জানান তিনি।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর সির্ন্দুনা গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম জানান, গেল বছর উৎপাদিত কুমড়া বাড়িতে সংরক্ষণ করে লাভবান হয়েছিলেন। সেই আশায় এ বছর তিনি ৭ হাজার কেজি কুমড়া সংরক্ষণ করে এখন বিপাকে পড়েছেন। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে কুমড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামিম আশরাফ বলেন, যারা কিছুদিন আগে তাদের উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করেছেন, তারা লাভবান হয়েছেন। বেশি লাভের আশায় যারা কুমড়া সংরক্ষণ করেছেন তারাই এখন বিপদে পড়েছেন।

তিনি বলেন, চরের চাষিরা কুমড়া চাষ করে বরাবরই লাভবান হয়ে আসছেন। কিন্তু এ বছর লকডাউনের কারণে আশানুরূপ লাভবান হতে পারছেন না কৃষকরা।