মায়ের পর মারা গেল খাদিজাও

পাঁচ বছরের খাদিজাকে হাসপাতালে যখন আনা হয়, তখন তার মাথা ও মুখমণ্ডল থেকে রক্ত ঝরছিল। ব্যথায় কাতরাচ্ছিল শিশুটি। সেই মুহূর্তে ওয়ার্ডের বাইরে সাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় স্ট্রেচারে পড়ে ছিল শিশুটির মা সুমনা বেগমের (৩৫) নিথর দেহ। তবে খাদিজাও খুব বেশি দেরি করেনি। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সেও বিদায় নেয় পৃথিবী থেকে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল খাদিজা। আজ শুক্রবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সকাল নয়টার দিকে মারা যান খাদিজার মা সুমনা বেগম।

সুমনা বরিশাল বিমানবন্দর থানার ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সৌদিপ্রবাসী আবুল হোসেনের স্ত্রী।
আজ শুক্রবার সুনামগঞ্জে খাদিজার চাচা ইমন আহমদের পাত্রী দেখতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শিশুসহ ১২ জন নারায়ণগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। পথে আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁদের পরিবহন করা মাইক্রোবাসটি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ কান্দিগাঁও এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় গাড়িটি সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত হন গাড়িচালকসহ পাঁচজন।

পরে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সাড়ে আটটার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল নয়টার দিকে সুমনা বেগমের মৃত্যু হয়। এ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন সুমনার পাঁচ বছরের মেয়ে খাদিজা, ভাতিজা রফিকুল ইসলাম (৪০), ভাই আবুল হোসেন (৫০) ও গাড়িচালক নাদিম মাহমুদ (৪৫)। বেলা সোয়া তিনটার দিকে খাদিজার মৃত্যু হয়।

আহত রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভোরে ফজরের নামাজের পর গাড়িতে বসে একটু চোখ মুঝে আসছিল। এ সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে আমি নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করি।’ তিনি জানান, গাড়িতে যারা ছিল, সবাই আত্মীয়স্বজন। সবাই বরিশাল বিমানবন্দর থানার ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। তবে তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের পাগলা ফতুল্লা মুসলিম পাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন।

শেরপুর হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দ্বীন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাইক্রোবাসটিও থানায় রয়েছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত মা-মেয়ের লাশ হিমাগারে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা আসার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবজ্যোতি সিনহা বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মা-মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনই মারা গেছেন। আহত আরও তিনজনের মধ্য আবুল হোসেনের অবস্থা গুরুতর।