মাশরাফি দলের ফিনিশিং দুর্বলতা নিয়ে চিন্তিত

প্রায় সব দলেই দেখা যায় সাত-আট নম্বরে নেমে একজন ব্যাটসম্যান প্রায় বলের চেয়ে দ্বিগুণ হারে রান করে দলীয় সংগ্রহটাকে নিয়ে যান প্রতিপক্ষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আবার পরে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব কোনো লক্ষ্যকে ঝড়ো এক ইনিংসে ছুঁয়ে ফেলেন অনায়াসেই।

কিন্তু বাংলাদেশ দলে নেই এমন কোনো ব্যাটসম্যান। শুরুতে বাজি ধরা হয়েছিল সাব্বির রহমানের ওপর। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা সাব্বির এসেছিলেন তেমনই প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও তার কাঁধেই ছিলো নিচের দিকে নেমে মারমুখী ব্যাটসম্যানের ভূমিকা পালন করার দায়িত্ব।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তথা বিগত দেড়-দুই বছর ধরেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন সাব্বির। এছাড়া মাঠের বাইরের নানান ঘটনায় দলেও নিজের জায়গা হারান ২৭ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান। তার বদলে কখনো আরিফুল হক, আবার কখনো সৌম্য সরকার-লিটন দাসকে দিয়েও চেষ্টা করা হয়েছে ফিনিশিংয়ের সমস্যা সমাধানের।

তবু মেলেনি স্থায়ী সমাধান। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত নিউজিল্যান্ড সফরে পুনরায় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাব্বির। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে হাঁকিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও। ফলে আবারো আশায় বুক বেঁধেছেন অনেকেই। কিন্তু কতদিন ধারাবাহিক থাকবেন সাব্বির? আসলেই কী মেটাতে পারবেন কি-না ফিনিশিংয়ের সমস্যা- তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।

যে কারণে নিজ দলের ফিনিশিং দুর্বলতা নিয়ে চিন্তিত দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও। আজ দুপুরে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে একটি ‘বডি স্প্রে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলের ফিনিশিং দুর্বলতার ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, ‘আমার কাছে অনেক দিন থেকে একটা ব্যাপার মনে হয় যে আমাদের ফিনিশিংয়ে একটু দুর্বলতা আছে।’

তবে এ সমস্যার নির্দিষ্ট কাউকে দোষারোপ করতে রাজি নন মাশরাফি। তার ভাষ্যে, ‘আসলে এক্ষেত্রে জুনিয়রদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। পুরো দলেরই একটি সমস্যার জায়গা আছে যে আমরা খেলাটা শেষ করতে পারছি না এবং গত দুই তিন বছরে এমন অনেক ক্লোজ ম্যাচ আমরা হেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু রান তাড়া করার সময় নয়, প্রথমে ব্যাটিং করার সময়েও আমরা ভালো অবস্থান থেকে ভালো স্কোর দাঁড় করাতে পারিনি। সুতরাং এই জায়গাতে আমাদের একটি সমস্যা আছে। আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই জায়গাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

‘বিশ্বকাপে এমন কিছু ম্যাচ আসবেই। আর শুরুতে নয়টা ম্যাচ আছে, কিছু ম্যাচ আসবে যেগুলো এমন ক্লোজ হবে। এটি দলের জয় পরাজয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এটি নিয়ে আমরা অবশ্যই উদ্বিগ্ন এবং আমার বিশ্বাস যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো হয়তো বা কমাতে পারবো। আমি বলতে চাইছি না যে শতভাগ সফলতা পাবো কারণ এটি অনেক দিন এবং প্রসেসের ব্যাপার। আশা করি সময়ের সাথে সাথে এটা ঠিক হবে’- বলেন মাশরাফি।