মশা নিধন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতিনিয়তই বাড়ছে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এডিস মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেক মানুষ।

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা রোহিঙ্গাদের মতো, যে কারণে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে ডেঙ্গু হঠাৎ করেই বেশি হওয়ার কারণ এডিস মশা বেশি বেড়ে গেছে। এই মশাগুলো অনেক হেলদি ও সফস্টিকেটেড, তারা বাসাবাড়িতে বেশি থাকে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) আয়োজিত ডেঙ্গু চেঞ্জিং ট্রেন্ডস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট আপডেট শীর্ষক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঢামেক মেডিসিন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামে মন্ত্রী আরও বলেন, এডিস মশার প্রডাকশন অনেক বেশি। যেভাবে রোহিঙ্গা পপুলেশন আমাদের দেশে এসে বেড়েছে, সেভাবেই এই মসকিউটো পপুলেশনও বেড়েছে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। তবে মশা নিধন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, এটি সিটি কর্পোরেশনের কাজ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সপ্তাহব্যাপী সারা দেশে মশক নিধন এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, আমরা ডেঙ্গুকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমাদের এ চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানিয়ে সাংবাদিক, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নানা পেশার মানুষ একত্রিত হয়েছেন। আমি আশা করি, সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে এডিস মশার বংশবিস্তার ধ্বংস করতে পারব।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ দিনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ হাজার ৬৩৭ জন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটেছে ৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৪৭৩ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।