বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে “বাংলাওয়াশ” করল বাংলাদেশ

টেস্ট সিরিজের পর এবার ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে টাইগাররা। আজ জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৯৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ জিম্বাবুয়ে দেওয়া ২৯৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে দুই ওপেনার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। ওপেনিং জুটিতে মাত্র ১৩.৫ ওভারে দুই ওপেনার মিলে তুলেন ৮৮ রান।

ভালোই খেলছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু লিটনের এক ভুল শটে ক্যাচ পেয়ে যান ম্যাধেভেরে। আউট হওয়ার আগে লিটন করেন ৩২ রান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিমের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়ে ফেরন সাকিব। ব্যক্তিগত খাতায় তার সংগ্রহ ৩০ রান। তবে অন্য প্রান্ত থেকে আপন তালে খেলে গিয়েছেন তামিম ইকবাল।

প্রথম দুই ম্যাচে রান না পেলেও এই ম্যাচে তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৪তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তিনি থেমেছেন ১১২ রানে। ৯৭ বলে খেলা এই ইনিংসটি তিনটি ছয় এবং আটটি চারে সাজানো। এদিকে তামিম আউট হওয়ার পরের বলে কটবিহাইন্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।

ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ মিঠুন কে সাথে নিয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন নুরুল হাসান সোহান। ৫৭ বলে ৩০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন। তবে অন্য প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকেন কাজী নুরুল হাসান সোহান। ৩৯ বলে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন নুরুল হাসান সোহান।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটসম্যান তাদিওয়ানাশে মারুমানি এবং রেজিস চাকাভা। তাসকিন ও সাইফ উদ্দিনকে দিয়ে বোলিং শুরু করেছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

এরপর মোস্তাফিজ ও মাহমুদউল্লাহকেও নিয়ে এসেছেন। কিন্তু কেউ ব্রেক থ্রু দিতে পারেননি। নবম ওভারে সাকিবের হাতে বল তুলে দেন তামিম। সাকিব প্রথম ওভারেই সেই কাজটা করলেন। তার বল সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ৮ রান করা তাদিওয়ানাশে মারুমানি।

দ্বিতীয় উইকেটে চাকাবাকে নিয়ে ৫৪ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন গড়েন ব্রেন্ডন টেইলর। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর দারুণ বোলিং ভাঙল তাদের প্রতিরোধ। ক্যারিয়ারের দুইশতম ম্যাচ খেলতে নেমে মাহমুদউল্লাহ পেলেন উইকেটের স্বাদ।

জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরকে ফেরালেন অফস্পিনার। তার শর্ট বল মিড অন দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন টেইলর। কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড় করে তামিমের হাতে সহজ ক্যাচ দেন ৩৯ বলে ২৮ রান করা এ ব্যাটসম্যান।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে চাকাবা ও মায়ার্স দারুণ জবাব দিচ্ছে বাংলাদেশকে। নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি আসার পাশাপাশি সিঙ্গেলস ও ডাবলসে স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন তারা। চাকাবা এরই মধ্যে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। মায়ার্সের ব্যাটও হাসছে।

এই দুইজনের ৭১ রানের পার্টনারশিপ ভাঙেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৩৪ রান করা মায়ার্সকে বোল্ড করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এরপরে ওভারে এসে ব্যক্তিগত প্রথম উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৩ রান করা মাধিভেরেকে প্যাভিলিয়নে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে বাংলাদেশি বোলারদের চোখ রাঙিয়ে সেঞ্চুরি পথে হাটছিলেন চাকাবা। দলীয় ১৭২ রানের মাথায় তার রানের চাকা থামিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ক্লিন বোল্ড আউট করেন তাকে। ৮৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

১৭২ রানে ৫ হারানোর পর চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এসময় ষষ্ঠ উইকেটে ১১২ রানের জুটি গড়লে বড় ইনিংসের দিকেই এগোতে থাকে রোডেশীয়রা। রাজা এবং বার্ল দুজনই অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ৫৪ বলে ৫৭ রানে ফেরেন রাজা। এদিকে আউট হওয়ার আগে বার্ল করেছেন ৪৩ বলে ৫৯ রান।

পরের চার ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এছাড়া দুটি উইকেট নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: রেজিস চাকাভা (উইকেটরক্ষক), মারুমানি, ব্রেন্ডন টেইলর (অধিনায়ক), ডিওন মায়ার্স, মাধিভেরে, সিকান্দার রাজা, রায়ান বার্ল, ডোনাল্ড তিরিপানো, লুকে জংউই, ব্লিজিং মুজারাবানি, টেন্ডাই সাতারা।