বিস্ফোরক মামলায় মামুনুল হক আদালতে

খুলনায় ৮ বছর আগে দায়েরকৃত একটি বিস্ফোরক মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হককে। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে খুলনার মহানগর অতিরিক্ত আদালতে হাজির করা হয় মামুনুলকে। শুনানি শেষে বেলা ১১টার দিকে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। 

এর আগে গত শুক্রবার কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তায়  তাকে খুলনায় আনা হয়। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি কে এম ইকবাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ মামুনুর হককে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী শুনানিতে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে।  

২০১৩ সালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দাখিলকৃত মামলাটির চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সোয়া চারটার দিকে “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বাতিল ঘোষণা করে গ্রেপ্তারকৃত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি ও সরকার বিরোধী শ্লোগান” দিয়ে মিছিল বের করেছিল জামায়েতে ইসলামী, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামীসহ ১২ দলের প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মী। 

মিছিলটি নগরীর ডাকবাংলা ও ময়লাপোতা মোড় হয়ে শিববাড়ি মোড়ে গণজাগরণ মঞ্চের দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় ফুজি কালার ল্যাবের সামনে পৌঁছালে পুলিশী বাধার সম্মুখীন হয় মিছিলটি। এ সময় নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ককটেল বোমা ও গুলি নিক্ষেপ করলে, পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। নিক্ষিপ্ত বোমার আঘাতে আহত পুলিশদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় ২৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় খুলনা মহানগর ইমাম পরিষদের কয়েকজন নেতা ও হেফাজত ইসলামীর নেতা মাওলানা মামুনুল হকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ২২ ফেব্রুয়ারি সোনাডাঙ্গা থানার এসআই আলমগীর কবীর বাদী মামলা দায়ের করেন। 

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত ঘটনার আগের দিন ময়লাপোতা মসজিদ মোড়ে ওয়াজ করার সময় মামুনুল হকসহ অন্যান্যরা সংগঠিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও গণজাগরণ মঞ্চ ভাংচুরসহ পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিল। 

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মোক্তার হোসেন মোট ১০৭ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

জানা গেছে, খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এসএম আশিকুর রহমান পূর্ববর্তী একটি কার্য দিবসে মামুনুল হককে রবিবার আদালতে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেন। এর ফলে শুক্রবার তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে খুলনা কারাগারে আনা হয়।