নামাজে বিশ্বনবির সিজদার নিয়ম জেনে নিন

নামাজের প্রতিটি কাজ হতে হবে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মানুযায়ী। কেননা তিনি বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় কর; যেভাবে আমাকে পড়তে দেখেছো।’ সুতরাং নামাজের প্রতিটি রুকন আদায় করতে হবে সুন্নত তরিকায়।

যখনই সঠিকভাবে মানুষ নামাজ আদায় করে তখন সে নামাজ নিঃসন্দেহে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিজদার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

যেভাবে সিজদায় যাবেন

হজরত ওয়ায়েল বিন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদায় যেতেন তখন তিনি উভয় হাত (মাটিতে) রাখার আগে তাঁর হাঁটুদ্বয় রাখতেন। আর যখন সিজদাহ হতে উঠতেন তখন হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন। (আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিজি)

ইমাম খাত্তাবি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাত আগে রাখার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসের চেয়ে এই হাদিসটি অধিক বিশুদ্ধ। আর এই পদ্ধতিটি মুসাল্লীদের জন্য অধিক সহজ এবং দেখতেও অধিক সুন্দর।

সিজদায় যাওয়ার সময় জমিনের অধিক নিকটবর্তী অঙ্গ প্রথমে জমিনে পড়বে। তারপর তুলনামূলক অধিক নিকটবর্তী অঙ্গ জমিনে রাখবে। আবার সিজদা থেকে উঠার সময় জমিন থেকে শরীরের সবচেয়ে উপরের অঙ্গটি অন্যগুলোর আগে উঠবে। অতঃপর তার পরেরটি। সুতরাং মাথা যেহেতু জমিন থেকে সবচেয়ে উপরে তাই সবার আগে মাথা উঠবে, অতঃপর উভয় হাত, তারপর উভয় হাঁটু।

যেভাবে সিজদায় আদায় করবেন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কপাল ও নাকের ওপর সিজদাহ করতেন। সিজদাহ করার সময় তিনি কপাল ও নাক জমিনে ভালভাবে লাগাতেন। উভয় হাতের বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ হতে এমনভাবে আলাদা করে রাখতেন যে, তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখা যেত।

সিজদার সময় তিনি উভয় হাতকে তাঁর উভয় কাঁধ ও কান বরাবর রাখতেন এবং পিঠকে সোজা রাখতেন। উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহকে কিবলামুখী করে রাখতেন এবং উভয় হাতের তালু এবং আঙ্গুলসমূহকে ছড়িয়ে রাখতেন। আঙ্গুলসমূহের মাঝে বেশি ফাঁক রাখতেন না এবং একটিকে অন্যটির সাথে একেবারে মিলিয়েও রাখতেন না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো নিয়মে যথাযথভাবে নামাজ – আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন