দগ্ধ সেই মাদরাসা ছাত্রীর বিষয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর সোনা গাজীতে যৌন হয়রানির অভিযোগকারী নুসরাত জাহান রাফি (১৮) নামে এক মাদরাসা ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। দগ্ধ সেই ছাত্রীর অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসারত ডাক্তার। এদিকে দগ্ধ সেই ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টায় গভীর ভাবে মর্মাহত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে জানিয়েছেন চিকিৎক ডা. সামন্ত লাল।

রবিবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ওই ছাত্রীর যাবতীয় খরচ বহন করবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে ডা. সামন্ত লাল বলেন, ছাত্রীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আহত ওই ছাত্রীর একটি অডিও রেকর্ড গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। রেকর্ডে ওই ছাত্রী জানান, সকালে আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান তিনি। মাদরাসায় পৌঁছালে এক ছাত্রী তার বান্ধবী নুসরাতকে ছাদের উপর নিয়ে যান। সেখানে আরও চার-পাঁচজন মুখোশধারী ছাত্রী ছিলেন। তারা বলেন, প্রিন্সিপালের ওপর যে অভিযোগ করেছিস তা মিথ্যা, বল। আমি বলি না, আমি যা বলেছি সব সত্যি। তারা বলে, তোকে এখনই মেরে ফেলবো। আমরা তোর সব খবর নিছি। তোর প্রেম সম্পর্কিত সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমি বলি, আমি সব সত্য বলেছি। আমি শিক্ষকদের সম্মান করি, কিন্তু যে শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিছে আমি তার প্রতিবাদ করেছি। সঙ্গে সঙ্গে তারা আমার হাত-পা ধরে গায়ে আগুন দেয়।

এ সময় তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। তাৎক্ষণিকভাবে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন শিক্ষকরা।

ডাক্তার আরও জানান, কেরোসিন ঠেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় তার শরীরে। রোগীর মুখ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। কথা বলতে পারছে না। প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।