রংপুরে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

শ্রী ক্ষিতিশ চন্দ্র এবং শফিকুল ইসলাম। দুজনই রংপুরের পীরগাছা উপজেলা জগজীবন এলাকার বাসিন্দা। শ্রী ক্ষিতিশ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং শফিকুল ইসলাম স্থানীয় ব্যবসায়ী। তারা ইতোমধ্যে পুষ্টিগুণে ভরপুর ড্রাগন ফল চাষে সমূহ সফলতা পেয়েছেন। তাদের মতো এলাকার আরও প্রায় ৮-১০ জন কৃষক এই ফল চাষে দেখছেন সম্ভাবনা।

কৃষি বিভাগ বলছে, ড্রাগন চাষে উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটির আর্দ্রতা অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে ড্রাগন ফল চাষ বেশ সফলতা দেখাচ্ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় শ্রী ক্ষিতিশ চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে অলস বসে না থেকে বাড়ির সামনে উঁচু ১১ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ করার সিদ্ধান্ত নেই। পরে সদর বুড়িরহাট এলাকার হটিকালচার থেকে চারা সংগ্রহ করি এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শক্রমে চারা রোপণ করি। এ বছর খরচ বাদে ৬৫ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোপণের একবছর পর ফল আসা শুরু হয়। প্রথম বছর প্রায় ৮০ কেজি ফল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেছি। আগামী বছর এটি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রতিটি গাছে বছরে ৫০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত ড্রাগন ফল ধরে। আর একেকটি ফলের ওজন ৪০০-৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।

পীরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হক রুবেল বলেন, পীরগাছা উপজেলায় প্রথমবারের মতো গত তিন বছর আগে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ শুরু করা হয়েছে। দু’বছর পর থেকে ভালো ফলন দেখা দেওয়ায় এখন ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক। তাদের সার্বক্ষণিক উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়াসহ নানা উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ছোট বড় প্রায় ৩০-৩৫টি ড্রাগন বাগান রয়েছে। এ বছর ৯ হেক্টর জমিতে ১৮০ টন ড্রাগন উৎপাদন হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করতে দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়। চারা রোপণের ১ বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে। প্রতি বছর সেই ফলন দ্বিগুণ হয়।

রংপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, ড্রাগন চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এতে খরচ কম আবার লাভ বেশি। তাছাড়া বিদেশি এই ফলগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর।