চট্টগ্রামে নতুন ৭৬৫ জন করোনায় আক্রান্ত, ৬ রোগীর মৃত্যু

চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭৬৫ জনের নমুনায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ হার ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে বলা হয়, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ও চট্টগ্রামের আট ল্যাবে গতকাল রোববার ২ হাজার ৪৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে নতুন ৭৬৫ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৫৬৮ জন ও চৌদ্দ উপজেলার ১৯৭ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ বোয়ালখালীতে ৩০ জন, পটিয়ায় ২৮ জন, মিরসরাইয়ে ২৪ জন, সীতাকু-ে ১৯ জন, সন্দ্বীপে ১৬ জন, লোহাগাড়ায় ১৫ জন, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ১৩ জন করে, চন্দনাইশে ১১ জন, রাউজানে ৮ জন, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে ৬ জন করে, আনোয়ারায় ৫ জন এবং রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন রয়েছেন। জেলায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা এখন ৭১ হাজার ৬৬৭ জন। এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৫৪ হাজার ৫২৯ জন ও গ্রামের ১৭ হাজার ১৩৮ জন।

গতকাল করোনায় শহরের ৪ জন ও গ্রামের ২ জন মারা যান। ফলে মৃতের সংখ্যা এখন ৮৪১ জন হয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ৫২১ জন ও গ্রামের ৩২০ জন। সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন নতুন ২৫৫ জন। ফলে মোট আরোগ্য লাভকারীর সংখ্যা ৫২ হাজার ৬১০ জনে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ হাজার ২৮০ জন এবং ঘরে থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন। হোম কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে নতুন যুক্ত হন ২২৪ জন ও ছাড়পত্র নেন ১৯৮ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২ হাজার ৬৯ জন।

উল্লেখ্য, গতকাল ৬ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি মাসের প্রথম আঠারো দিনে চট্টগ্রামে ১৩৪ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামে একদিনে সর্বোচ্চ ১৪ জন মারা যান গত ১০ জুলাই। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের রেকর্ড ১৩ জুলাই, ১ হাজার ৩ জন। এ মাসে সর্বনি¤œ আক্রান্ত শনাক্ত হয় ২ জুলাই, ২৬২ জন। সংক্রমণ হার ছিল ২৫ শতাংশ এবং একজনের মৃত্যু হয়।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, এন্টিজেন টেস্টে গতকাল ৮৬৪ জনকে পরীক্ষা করা হলে শহরের ১৩১ জন ও গ্রামের ১৩৮ জনকে সংক্রমিত বলে জানানো হয়। ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৪৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শহরের ৬৯ ও গ্রামের ৮ জন জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ২৫১ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ৫৭ ও গ্রামের ২২ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন। বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ পরীক্ষিত ৩১ টি নমুনার মধ্যে ১৮ টির পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরা সবাই শহরের বাসিন্দা।

বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাব ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৩৭২ টি নমুনা পরীক্ষা করলে শহরের ১০৮ ও গ্রামের ৯ টি, শেভরনে ২৫১ নমুনার মধ্যে শহরের ৬৯ ও গ্রামের ৬ টি, মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৪৪ টি নমুনায় গ্রামের ২ টিসহ ২৯ টি, মেডিকেল সেন্টারে ৬০ নমুনা পরীক্ষায় গ্রামের ৪ টিসহ ৩২ টি এবং এপিক হেলথ কেয়ারে ১২২ নমুনার মধ্যে শহরের ৬১ ও গ্রামের ৮ টিতে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এদিন চট্টগ্রামের ৩ জনের নমুনা কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় সবগুলোরই ফলাফল নেগেটিভ আসে।

তবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট পর্যবেক্ষণে এন্টিজেন টেস্টে ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ, বিআইটিআইডি’তে ১৭ দশমিক ৫০, চমেকে ৩১ দশমিক ৪৭, আরটিআরএলে ৫৮ দশমিক ০৬, ইম্পেরিয়ালে ৩১ দশমিক ৪৫, শেভরনে ২৯ দশমিক ৮৮, মা ও শিশু হাসপাতালে ৬৫ দশমিক ৯১, মেডিকেল সেন্টারে ৫৩ দশমিক ৩৩, এপিক হেলথ কেয়ারে ৫৬ দশমিক ৫৬ এবং কক্সবাজার মেডিকেল ০ শতাংশ সংক্রমণ হার নির্ণিত হয়।