বাংলাদেশ: উটপাখির মাংস দিয়ে মিটবে আমিষের চাহিদা

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটে চলছে উটপাখির জাত উন্নয়নে গবেষণা।

আফ্রিকা থেকে ২২টি উটপাখি এনে সেগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী করে গড়ে তুলে তা থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য হাতে নেওয়া হয়েছে এই গবেষণা প্রকল্প।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আবহাওয়া উটপাখি পালনের জন্য উপযোগী বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, তবে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করা যাবে কিনা – তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও বছর দেড়েক।

বিএলআরআইয়ে উট পাখি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় গবেষণার জন্য তিন বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। অনেকেই শখে উট পাখি পালন করছেন। 
আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে উট পাখি পোষা হয় না। তাই উট পাখি পোষা সহজ এবং এর মাংসকে জনপ্রিয় করার জন্য আমরা কাজ করছি। গুণাগুণ বিচারে উট পাখির মাংসের তুলনা হয় না। গত বছর দেশে আমিষের চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সাউথ আফ্রিকা থেকে কিছু উট পাখি আনা হয়।

এখানে পাখিগুলো লালন পালন ও গবেষণা চলছে। গবেষণার পাশাপাশি আমাদের দেশের পরিবেশে তাদের খাপ খাওয়াতে নতুন প্রজনন করা হচ্ছে। তিন বছরের গবেষণা শেষ হলে খামার পর্যায়ে পোষার জন্য পাখিগুলো খামারিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জলিল বলেন, মুরগিকে প্রচুর দানাদার খাদ্য দিতে হয়, এদিকে উট পাখির ৬০ ভাগ খাদ্য লতাপাতা যা বাংলাদেশে সহজলভ্য।
তিনি আরও বলেন,  একটা গরু থেকে আমরা বছরে একটা বাচ্চা পাচ্ছি, অথচ একটা উটপাখি থেকে আমরা মিনিমাম ২০ থেকে ২৫ টা বাচ্চা পেতে পারি। তাহলে একটা উট পাখির সাথে পাঁচটা গরুর তুলনা করতে পারি।
আফ্রিকা থেকে আনা হলেও এসব উট বাংলাদেশে পালন করা সম্ভব। সাধারণত দুই আড়াই বছর থেকে মাদি উট পাখি ডিম দেওয়া শুরু করে।
তবে উট পাখির ডিম থেকে বাংলাদেশে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এরইমধ্যে বাংলাদেশে উটপাখির খামার করেছেন অনেক উদ্যোক্তা।