আফগানিস্তান সম্পর্কে কিছু অজানা কথা

আফগানিস্তান এমন এক দেশ যেখানকার সংস্কৃতি, জীবনযাপন, ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের তেমন মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। দেশটির ৯৯.৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। দেশটির সঙ্গে ৬টি দেশ- ইরান, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান ও চীনের সীমানা রয়েছে। আফগানিস্তান সম্পর্কে কিছু অজানা কথা জেনে নেয়া যাক।

প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে আফগানিস্তানে মানুষের বসবাস শুরু। এরপর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, মোঙ্গল, আরব, ব্রিটিশ, সোভিয়েত রাশিয়া, আমেরিকার মতো দেশ ও জাতি দেশটির উপর একের পর এক আগ্রাসন চালায়।

আরবরা আফগানিস্তানে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আসে ৬৩২ সালে। সে সময় দেশটির নাম তারা দিয়েছিল আল হিন্দ। এর আগে বৌদ্ধ ধর্ম ও জোরাস্ত্রিয়ান ধর্ম ছিল দেশটিতে।
চেঙ্গিস খান ও মোঙ্গল সেনারা আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় ১২১৯ সালে।

আফগানদের নববর্ষ নওরোজ পালন করা হয় মার্চের ২১ তারিখে। দিনটি পালন করতে উত্তরাঞ্চলের মাজার- ই- শরীফ নগরে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়।

আফগানদের জাতীয় খেলা বুজকাশি। এই খেলায় একটি মৃত ছাগলকে ঘোড়ায় চড়া প্রতিযোগীদের তুলে নিয়ে ফেলতে হয় গোল একটি বৃত্তের মধ্যে। কে আগে সেটি তুলে নিয়ে যেতে পারে এই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে।

আফগান সংস্কৃতিতে কবিতার একটি বিশেষ স্থান আছে। হাজার বছর আগে থেকেই কবিতা চর্চা শুরু হয় দেশটিতে।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০ সালে আফগানিস্তানের হেরাত নগর দখল করে সেখানে একটি দুর্গ গড়েছিলেন। বল্ক প্রদেশের আফগান সুন্দরী রোক্সানের প্রেমে পড়েছিলেন আলেকজান্ডার। তার গর্ভেই সম্রাটের একমাত্র সন্তানের জন্ম হয়।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আছে মোঘল সম্রাট বাবরের সমাধি। ১১ হেক্টর এলাকাজুড়ে তার নিজের গড়া একটি বাগান খুব পছন্দ করতেন বাবর। মৃত্যুর পর সেখানেই তার সমাধি গড়ার কথা বলে যান তিনি।

বিশ্বের প্রথম কোথায় গুহার মধ্যে অয়েল পেইন্টিং করা হয়েছিল জানেন? আফগানিস্তানের শহর বামিয়ানে। খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০ সালে গুহায় অয়েল পেইন্টিং করে প্রাচীন মানুষ। সেখানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাঁড়িয়ে থাকা গৌতম বুদ্ধের মূর্তি ছিল। ২০০১ সালে তালেবানরা সেসব মূর্তি গুঁড়িয়ে দেয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আফগানিস্তানের। কয়েক দশক ধরে যুদ্ধের কারণে দেশছাড়া হয়েছে অসংখ্য আফগান। সম্প্রতি তালেবান আবার ক্ষমতা দখল করার পরও অনেক আফগান দেশ ছেড়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল ছাড়াও আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে মজুদ আছে স্বর্ণ, তামা, লোহা ও লিথিয়ামের মতো দামী ও গুরুত্বপূর্ণ সব খনিজ পদার্খ। এসবের মূল্য অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়।