আপনার সন্তানের এই স্বাস্থ্য সমস্যাটি নেই তো?

সম্প্রতি ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে শিশুদের মাঝে দেখা দিয়েছে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা। তারা অনেকটা সময় বসে বসে মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করে, যার কারণে তাদের খেলাধুলার সময় কমে গেছে এবং ব্যথা দেখা দিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝেও দেখা যায় এই ধরনের ব্যথা যাকে বলা হয় ‘টেক্সট নেক’। কিন্তু শিশুদের জন্য তা বিশেষ ক্ষতিকর। কারণ এতে তাদের বাড়ন্ত শরীরে ঘাড়ের গড়ন স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

শিশুরা দীর্ঘ সময় বসে থাকে ও মাথা ঝুঁকিয়ে মোবাইল বা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে বলে তাদের ঘাড়, পিঠ ও পিঠের নিচের দিকে ব্যথা হতে থাকে। এর আগে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ‘টেক্সট নেক’ নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

২০১৪ সালে সার্জিক্যাল টেকনলজি ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, আপনি ঘাড় সোজা করে, দুই হাত দুপাশে ঝুলিয়ে রাখলে ঘাড়ের ওপর চাপ পড়ে ১০-১২ পাউন্ড। ১৫ ডিগ্রি ঝুঁকে গেলে চাপ হয় ২৭ পাউন্ড, ৩০ ডিগ্রি ঝুঁকলে চাপ হয় ৪০ পাউন্ড। আর ৪৫ ডিগ্রি ঝুঁকলে চাপ হয় ৪৯ পাউন্ড। বেশিরভাগ মানুষই ফোন ব্যবহার করার সময়ে ২০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি ঝুঁকে থাকেন। ফলে ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে।

ইদানিং মোবাইল ফোন শিশুরাও ব্যবহার করছে, ফলে তাদেরও এই টেক্সট নেক দেখা দিচ্ছে। ২০১৭ সালে আমেরিকার এক জরিপে দেখা যায়, ৮ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে গড়ে ৪৮ মিনিট ফোনের পেছনে ব্যয় করে। ফোনের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করা আর খেলাধুলা না করার কারণেই বাচ্চাদের বসা ও দাঁড়ানোর ভঙ্গি অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছে এবং দেখা দিচ্ছে ঘাড়ের ব্যথা।

এই ব্যথা দূর করার প্রথম ধাপটিই হলো ফোন ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি সবই কমে আসবে। একেবারে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন না, এতে শিশুর রাগ ও জেদ বেড়ে যেতে পারে। সময়টা কমিয়ে দিন ও একটানা লম্বা সময় যেন ফোন ব্যবহার না করে তা নিশ্চিত করুন। এর পাশাপাশি শিশুদের কিছু কৌশলও শিখিয়ে দিতে হবে। তাকে শেখাতে হবে, চোখ বরাবর উঁচু করে ধরতে হয় ফোন, এতে ঘাড়ে ব্যথা হয় না। এর পাশাপাশি হাতে ফোন বা ট্যাবলেট না ধরে সেটা টেবিলে রেখে ব্যবহার করাটাও শেখাতে হবে।

এর পাশাপাশি ফোনে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর পর রিমাইন্ডার বেজে উঠলে বসার ভঙ্গি পাল্টান। এই ব্যথা সাময়িকভাবে দূর করার জন্য হালকা পেইনকিলার ব্যবহার করতে পারেন বা কোনো বাম ব্যবহার করে ঘাড় মালিশ করে দিতে পারেন