আমেরিকায় সামুদ্রিক ঝড় ও বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও টর্নেডোর প্রকোপে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ জন মারা গেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মন্তব্য করেছেন এই প্রাকৃতিক দুর্যোাগ মোকাবেলায় ‘ঐতিহাসিক বিনিয়োগ’ প্রয়োজন হবে।

পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই পরিবেশগত নানা বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটি এই বিপর্যয়কে ‘জীবন-মৃত্যুর সঙ্কট’ হিসেবে বিবেচনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

নিউ ইয়র্ক শহর এবং নিউ জার্সিতে অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সেসব অঞ্চলের অনেক বাসিন্দাই পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।

চারটি অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মার্ফি জানিয়েছেন যে রাজ্যটিতে অন্তত ২৩ জন মারা গেছেন – যাদের অধিকাংশই পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে মারা গেছেন।

নিউ ইয়র্ক শহরে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন ভবনের বেজমেন্টে পানিবন্দী অবস্থায় মারা গেছেন।

পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় তিনজন মারা গেছেন, কানেটিকাটে মারা গেছেন একজন।

এই হারে ঝড় হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা, তা এখনো পরিস্কার না হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়লে তার আশেপাশের বাতাস উষ্ণতর হয়ে ওঠে এবং হারিকেন, সাইক্লোন ও টাইফুন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ফলস্বরূপ এই ধরণের দুর্যোগের সাথে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, “আমাদের মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো উচিত যে সবদিক থেকে পরিস্থিতির অবনতি হবে।”

নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হচাল মন্তব্য করেছেন: “আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে রাত ৮টা ৫০ থেকে ৯টা ৫০ এর মধ্যে সত্যিকার অর্থে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি হবে এবং নায়াগ্রা জলপ্রপাতের পানি নিউ ইয়র্কের রাস্তা পর্যন্ত চলে আসবে।”

তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টিপাতের ফলে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

নিউ ইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধ ছিল এবং কিছু অংশে সাবওয়ে চলাচলও বন্ধ ছিল।

কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় গাড়ি ভেসে যাচ্ছে এবং গাড়ির ভেতর থেকে সাহায্যের চিৎকারও শোনা যাচ্ছিল।

কোনো কোনো জায়গায় বাস, ট্রেনের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে থাকতে হয়েছে।

নিউ ইয়র্কের পুলিশ লোকজনকে রাস্তায় না যেতে পরামর্শ দিয়েছে। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, নগরীর নানা প্রান্ত থেকে আসা সাহায্যের আবেদনে তাদের সাড়া দিতে হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় আইডা গত রোববার লুইজিয়ানায় আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ধরে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এই ঘুর্ণিঝড়টি ছিল ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লুইজিয়ানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার ঘরবাড়িতে এখনো কোন বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। নিউ অরলিন্সে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি রয়েছে।