টানা তৃতীয় মাসে বাড়ল এলপিজির দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে দেশের বাজারে সিলিন্ডারে বিক্রি হওয়া তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম টানা তৃতীয় মাসে বাড়ানো হল।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- বিইআরসি মঙ্গলবার মূসকসহ প্রতি কেজি এলপিজির দাম ৮২ টাকা ৭২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ০৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে।

নতুন মূল্যহার অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পড়বে মূসকসহ ১০৩৩ টাকা হবে।

দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, অগাস্ট মাসের সৌদি সিপি বা পাইকারি মূল্যহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

এর আগে গত অগাস্ট মাসে প্রতিকেজি এলপিজির দাম ৮ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। জুলাই মাসে প্রতিকেজি এলপিজির খুচরা মূল্য ৭০ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৭৪ টাকা ২৪ পয়সা।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সৌদি আরমকো কোম্পানির প্রোপেন ও বিউটেনের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।সর্বশেষ অগাস্টে সৌদি সিপি অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণমূল্য ধরা হয়েছে প্রতিটন ৬৫৬ দশমিক ৭৫ ডলার (এক ডলার সমান ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা ধরে)।

নতুন মূল্যহার অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০৩৩ টাকা। যা অগাস্টে ৯৯৩ টাকা, জুলাইয়ে ৮৯১ টাকা, জুনে ৮৪২ টাকা এবং মে মাসে ৯০৬ টাকা ছিল।

একইভাবে সাড়ে ৫ কেজি সিলিন্ডার ৪৭৩ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ১০৭৬ টাকা, ১৫ কেজি ১২৯১ টাকা, ১৬ কেজি ১৩৭৭ টাকা, ১৮ কেজি ১৫৪৯ টাকা, ২০ কেজি ১৭২২ টাকা, ২২ কেজি ১৮৯৩ টাকা, ২৫ কেজি ২১৫১ টাকা, ৩০ কেজি ২৫৮৩ টাকা, ৩৩ কেজি ২৮৪১ টাকা, ৩৫ কেজি ৩০১৩ টাকা এবং ৪৫ কেজি ৩৮৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসির আদেশে দেখা যায়, প্রোপেন-বিউটেনের মিশ্রণমূল্য পরিবর্তন হলেও রিটেইল চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ, পরিবহন চার্জ, মূসক, মজুদকরণ চার্জ অপরিবর্তিত রয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত (রেটিকুলেটেড পদ্ধতি) এলপিজির দাম মূসকসহ প্রতিকেজি ৮৩ টাকা ৭৭ পয়সা করা হয়েছে, যা অগাস্ট মাসে ৮০ টাকা ৪৩ পয়সা এবং জুলাই মাসে ৭১ টাকা ৯৪ পয়সা ছিল।

এছাড়া অটোগ্যাস ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ প্রতি লিটার ৫০ টাকা ৫৬ পয়সা করা হয়েছে যা অগাস্টে ৪৮ টাকা ৭১ পয়সা এবং তার আগের মাসে ৪৪ টাকা ছিল।

গত ১২ এপ্রিল প্রথমবার দেশে এলপিজির দাম বেঁধে দেয় বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে সৌদি আরমকোর সিপির (পাইকারি মূল্য) ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।