অবশেষে কাশ্মীরিদের পাশে দাড়াল কলকাতা

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুলওয়ামাতে আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র গাড়ি বহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে বহরের ৭০টি গাড়ির মধ্যে একটি বাস সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাণ হারায় বাহিনীর অন্তত ৪৪ সদস্য। গত সপ্তাহে পুলওয়ামায় জঙ্গিহানার পর থেকেই গোটা দেশ থেকেই কাশ্মিরিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের আক্রমণের খবর আসছে।

তার মধ্যেই কলকাতা পুলিশ জানিয়ে দিল, উপত্যকার মানুষরা এই শহরে একদমই নিরাপদ। তাদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই মোহাম্মদ ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানবিরোধী প্রচারণা জোরালো করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেনাবাহিনীর জন্য সব ধরনের স্বাধীন পদক্ষেপের এখতিয়ার ঘোষণা করেন তিনি।

যেমন করে কাশ্মিরকে সামরিকতায় আচ্ছন্ন বিচ্ছিন্ন প্রদেশের মতো করে রাখা হয়েছে, তেমন করেই ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে কাশ্মিরবিরোধী উত্তাপ। দেশজুড়ে হামলার শিকার হতে থাকে কাশ্মিরীরা। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার অনুজ শর্মা বলেন, ‘কাশ্মীরিরা এই শহরে পুরোপুরি নিরাপদ।

আমি একটু আগেই অন্যান্য পুলিশকর্তাদের সঙ্গে এই নিয়ে বৈঠক করেছি। যে যে স্থানে কাশ্মীরিরা থাকেন, চিহ্নিত করেছি সেই স্থানগুলিকেও। তাদের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তারা এই শহরে সম্পূর্ণ নিরাপদ। এমনটাই আমি বিশ্বাস করি”।গত শুক্রবার ২২ বছর ধরে কলকাতার বাসিন্দা এক কাশ্মীরি চিকিৎসককে কয়েকজন মিলে ঘিরে ধরে হুমকি দেয় এবং এই শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলে। ওই চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতেই দায়ের করা হয় একটি এফআইআর।

এছাড়া, শহর ও জেলার বেশ কয়েকটি স্থান থেকে ‘ছেলেধরা’-র গুজবও তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই সব স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছেলেধরারা, যারা, বাচ্চাদের অপহরণ করে তাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুলে নিচ্ছে। অনুজ শর্মা জানান, এই ধরনের গুজবের বিরুদ্ধে গণসচেতনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনওভাবেই এই ‘পরিকল্পিত প্রচেষ্টা’গুলির ফলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়।